জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দুর্বলতার ৩টি প্রধান কারণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দুর্বলতার ৩টি প্রধান কারণ
ইংরেজি আজ আর শুধু একটি বিষয় নয়, এটি একটি জীবনঘনিষ্ঠ দক্ষতা। চাকরি, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সবখানেই ইংরেজির প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজিতে দুর্বল। এর পেছনে কিছু গভীর ও কাঠামোগত কারণ আছে। নিচে সেই ৩টি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করা হলো।
১. মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাস্তব অনুশীলনের অভাব
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো মুখস্থভিত্তিক শেখার প্রবণতা প্রবল। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় পাশ করার জন্য গাইড বইয়ের উত্তর মুখস্থ করে, কিন্তু ভাষা শেখার জন্য যে নিয়মিত চর্চা দরকার—সেটা হয় না।
ইংরেজি শেখা মানে শুধু গ্রামার জানা নয়; কথা বলা, লেখা, শোনা ও পড়া—এই চারটি দক্ষতার সমন্বয়। কিন্তু ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের কথা বলার সুযোগ খুব কম। ফলে তারা ইংরেজি বুঝতে পারলেও ব্যবহার করতে পারে না। ভাষা ব্যবহার না করলে ভাষা শক্ত হয় না—এটাই বাস্তব সত্য।
২. শিক্ষক ও ক্লাসরুমভিত্তিক সীমাবদ্ধতা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক কলেজে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষক সংকট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেরাও ইংরেজিতে সাবলীল নন বা আধুনিক ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি অনুসরণ করেন না।
অন্যদিকে, অধিকাংশ ক্লাসরুমে ছাত্রসংখ্যা বেশি, সময় কম। শিক্ষার্থীদের আলাদা করে গাইড করার সুযোগ থাকে না। ফলে যারা শুরু থেকেই দুর্বল, তারা আরও পিছিয়ে পড়ে। ইংরেজি শেখার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার—সেটা বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পায় না।
৩. মানসিক ভয় ও আত্মবিশ্বাসের অভাব
ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে অনেক শিক্ষার্থীর মনে ভয় কাজ করে—ভুল হলে হাসাহাসি হবে, শিক্ষক বা বন্ধুরা নেতিবাচক মন্তব্য করবে। এই ভয় ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করে, “আমি ইংরেজিতে পারি না”—এই ধারণাটাই তাদের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভাষা শেখার জন্য ভুল করা খুব স্বাভাবিক, কিন্তু আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতিতে ভুলকে গ্রহণ করার মানসিকতা নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা চর্চা থেকে দূরে থাকে।
